মানুষের শরীর
সুস্থ
রাখতে
যে
উপাদানগুলো অপরিহার্য, তার
মধ্যে
ভিটামিন অন্যতম। এগুলো
শরীরকে
শক্তি
সরাসরি
জোগায়
না,
তবে
শরীরের
বিভিন্ন জৈব
রাসায়নিক ক্রিয়ায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
পালন
করে।
ভিটামিনের অভাব
হলে
নানা
ধরণের
রোগ
দেখা
দেয়,
আবার
সঠিক
মাত্রায় গ্রহণ
করলে
শরীর
থাকে
সুস্থ
ও
সবল।
ভিটামিন কাকে বলে?
ভিটামিন হলো
জৈব
যৌগ
যা
অল্প
পরিমাণে হলেও
শরীরের
জন্য
অত্যাবশ্যক। শরীর
সাধারণত এগুলো
তৈরি
করতে
পারে
না
(কিছু
ব্যতিক্রম ছাড়া),
তাই
খাদ্যের মাধ্যমে ভিটামিন গ্রহণ
করতে
হয়।
মানুষের শরীরে কত
ধরনের ভিটামিন পাওয়া যায়?
মানুষের শরীরে
বর্তমানে ১৩ প্রকার ভিটামিন পাওয়া
যায়।
সেগুলোকে দুটি
ভাগে
ভাগ
করা
হয়ঃ
1.
স্নেহ-দ্রবণীয় ভিটামিন (Fat-soluble vitamins):
ভিটামিন A, D, E, K
2.
জল-দ্রবণীয় ভিটামিন (Water-soluble vitamins):
ভিটামিন B-কমপ্লেক্স (৮
প্রকার)
ও
ভিটামিন C
ভিটামিনের প্রকারভেদ ও
বিস্তারিত
১. ভিটামিন
A
- রাসায়নিক নাম: রেটিনল
(Retinol)
- কাজ:
- চোখের দৃষ্টিশক্তি স্বাভাবিক রাখা
- ত্বক ও কোষের সুরক্ষা
- রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি
- উৎস: গাজর, কুমড়ো, পালং শাক, ডিমের কুসুম, মাছের লিভার অয়েল
২.
ভিটামিন B কমপ্লেক্স (মোট ৮ প্রকার)
(ক) ভিটামিন
B1 – থায়ামিন (Thiamine):
- কাজ: স্নায়ু ও পেশীর সঠিক কার্যক্রম, শক্তি উৎপাদনে সহায়ক
- উৎস: দুধ, ডাল, বাদাম, চালের ভূষি
(খ) ভিটামিন
B2 – রাইবোফ্লাভিন (Riboflavin):
- কাজ: চোখ ও ত্বকের স্বাস্থ্য রক্ষা
- উৎস: দুধ, ডিম, সবুজ শাক
(গ) ভিটামিন
B3 – নাইআসিন (Niacin):
- কাজ: হজম প্রক্রিয়া
ঠিক রাখা, ত্বক ও
স্নায়ুর সুরক্ষা
- উৎস: মাংস, মাছ, বাদাম
(ঘ) ভিটামিন
B5 – প্যান্টোথেনিক এসিড (Pantothenic Acid):
- কাজ: হরমোন উৎপাদন, ফ্যাটি অ্যাসিড বিপাকে সহায়ক
- উৎস: শাকসবজি, মুরগির মাংস, দুধ
(ঙ) ভিটামিন
B6 – পাইরিডক্সিন (Pyridoxine):
- কাজ: হিমোগ্লোবিন
তৈরি, মস্তিষ্কের কার্যক্রম উন্নত
- উৎস: কলা, আলু, মাছ
(চ) ভিটামিন
B7 – বায়োটিন (Biotin):
- কাজ: চুল, ত্বক ও নখের স্বাস্থ্য রক্ষা
- উৎস: ডিম, বাদাম, মটরশুঁটি
(ছ) ভিটামিন
B9 – ফলিক এসিড (Folic Acid):
- কাজ: নতুন কোষ গঠন, গর্ভস্থ শিশুর সঠিক বৃদ্ধি
- উৎস: সবুজ শাক, ডাল, কলা
(জ) ভিটামিন
B12 – সায়ানো-কোবালামিন (Cyanocobalamin):
- কাজ: রক্তকণিকা
তৈরি, স্নায়ুতন্ত্রের সুরক্ষা
- উৎস: মাছ, মাংস, ডিম, দুধ
৩.
ভিটামিন C
- রাসায়নিক নাম: অ্যাসকরবিক
এসিড (Ascorbic Acid)
- কাজ:
- রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি
- ক্ষত নিরাময় দ্রুত করা
- আয়রন শোষণে সহায়ক
- উৎস: লেবু, কমলা, পেয়ারা, কাঁচা মরিচ
৪.
ভিটামিন D
- রাসায়নিক নাম: ক্যালসিফেরল
(Calciferol)
- কাজ:
- হাড় ও দাঁত শক্ত রাখা
- ক্যালসিয়াম শোষণে সহায়তা
- উৎস: সূর্যের আলো, মাছের তেল, দুধ, ডিম
৫.
ভিটামিন E
- রাসায়নিক
নাম: টোকোফেরল
(Tocopherol)
- কাজ:
- অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট
হিসেবে কাজ করে
- ত্বক ও প্রজনন ক্ষমতা সুস্থ রাখা
- উৎস: বাদাম, বীজ, উদ্ভিজ্জ তেল, সবুজ শাক
৬.
ভিটামিন K
- রাসায়নিক নাম: ফিলোকুইনন
(Phylloquinone)
- কাজ:
- রক্ত জমাট বাঁধতে সহায়তা করে
- হাড়ের স্বাস্থ্য বজায় রাখা
- উৎস: পালং শাক, বাঁধাকপি,
ফুলকপি, ব্রকলি
ভিটামিনের ঘাটতির ফলাফল
- ভিটামিন A এর অভাব: রাতকানা, চোখ শুকিয়ে যাওয়া
- ভিটামিন B1 এর অভাব: বেরিবেরি
রোগ
- ভিটামিন B12 এর অভাব: রক্তস্বল্পতা
- ভিটামিন C এর অভাব: স্কার্ভি
রোগ
- ভিটামিন D এর অভাব: রিকেটস (হাড় নরম হয়ে যাওয়া)
- ভিটামিন K এর অভাব: রক্তক্ষরণ
বন্ধ না হওয়া
উপসংহারঃ
ভিটামিন আমাদের
শরীরের
জন্য
এক
অনন্য
পুষ্টি
উপাদান। এগুলো
সরাসরি
শক্তি
না
দিলেও,
শরীরের
প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সঠিক কার্যকারিতা নিশ্চিত করে।
সঠিক
খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে প্রতিদিন পর্যাপ্ত ভিটামিন গ্রহণ
করলে
আমরা
সুস্থ
ও
কর্মক্ষম জীবনযাপন করতে
পারি।
তাই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ফল,
শাকসবজি, দুধ,
ডিম,
মাছ,
মাংস
ও
বাদাম
রাখার
অভ্যাস
করলে
শরীরে
ভিটামিনের ঘাটতি
হবে
না
এবং
রোগ
প্রতিরোধ ক্ষমতা
বৃদ্ধি
পাবে।
