ফুল গাছের যত্ন: সার, পরিচর্যা ও সারা বছরের ফুল

 
বাংলার প্রকৃতি ফুল ছাড়া কল্পনা করা যায় না। বাড়ির বারান্দা, ছাদ কিংবা বাগানযেখানেই হোক না কেন, ফুলগাছ শুধু সৌন্দর্যই বাড়ায় না, মানসিক প্রশান্তিও আনে। তবে সুস্থ টবভর্তি ফুল পেতে হলে নিয়মিত পরিচর্যা করা জরুরি। আজ আমরা জানবোফুল গাছে সার দেওয়া হয় কিনা, সারা বছর কোন ফুল ফোটে, গাছের যত্ন নেওয়ার উপায়, মরা ফুল কাটার প্রয়োজনীয়তা এবং ৩০টি জনপ্রিয় ফুলের নাম।

আরোও পড়ুনঃইসলামে মহাগ্রন্থ আল কুরআনের প্রয়োজনীয়তা: কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে।

ফুল গাছে কি সার দেওয়া হয়?

হ্যাঁ, ফুলগাছে সার দেওয়া অপরিহার্য। কারণ গাছের মতোই ফুল ফোটানোর জন্য আলাদা পুষ্টির দরকার হয়।

  • জৈব সারগোবর সার, কম্পোস্ট, কেঁচো সার, সরিষার খৈল।
  • রাসায়নিক সারইউরিয়া (পাতা বড় সবুজ করতে), টিএসপি/ডিএপি (ফুল ধরাতে), এমওপি (গাছ শক্তিশালী রাখতে)
    সাধারণত প্রতি ২০-২৫ দিন পর পর সামান্য সার দেওয়া ভালো। তবে বেশি সার দিলে গাছের ক্ষতি হতে পারে।

 

সারা বছর যে ফুল ফোটেঃ

কিছু ফুল প্রায় পুরো বছরই ফোটে, যেমন:

  • গোলাপ
  • জবা
  • গাঁদা
  • বেল
  • জুঁই
  • গন্ধরাজ
  • বোগেনভেলিয়া (কাগজি গোলাপ)
  • কাঞ্চন
  • কাজরী

এছাড়া মৌসুমভেদে নানা ধরনের ফুল ফোটানো যায়। শীতকালে পেটুনিয়া, ডালিয়া, প্যানসি, আর গ্রীষ্মকালে সূর্যমুখী, ট্যাগারেট প্রভৃতি ফুল খুব জনপ্রিয়।

 

ফুলগাছের যত্ন নেওয়ার উপায়ঃ

1.    সঠিক আলোবেশিরভাগ ফুলগাছের জন্য দিনে অন্তত ঘণ্টা রোদ প্রয়োজন।

2.    পানি দেওয়ামাটি শুকিয়ে গেলে পানি দিন, তবে টবে জলাবদ্ধতা যেন না হয়।

3.    সার প্রয়োগমাসে একবার জৈব সার দিলে গাছ সতেজ থাকে।

4.    মাটি ঝুরঝুরে রাখাটবের মাটি মাঝে মাঝে আলগা করতে হবে যাতে শিকড় বাতাস পায়।

5.    পোকামাকড় দমননিমপাতার রস বা অল্প কীটনাশক ব্যবহার করা যায়।

6.    ডেডহেডিং (মরা ফুল কাটা)শুকনো ফুল কেটে ফেললে নতুন ফুল দ্রুত ফোটে।

7.    ছাঁটাই করাগাছের বাড়তি ডাল কেটে দিলে ফুল ধরার সম্ভাবনা বাড়ে।

 

গাছ থেকে মরা ফুল কেটে ফেলা উচিত কেন?

অনেকেই মনে করেন শুকনো ফুল গাছে থাকলে তাতে সমস্যা নেই। কিন্তু আসলে মরা ফুল কেটে ফেলা খুব জরুরি। কারণ:

  • গাছ নতুন কুঁড়ি গজাতে উৎসাহিত হয়।
  • গাছ রোগমুক্ত থাকে।
  • সৌন্দর্য বজায় থাকে।

 তাই নিয়মিত মরা ফুল শুকনো পাতা পরিষ্কার করতে হবে।

 

 

জনপ্রিয় ৩০টি ফুলের নামঃ

নিচে ৩০টি ফুলের নাম দেওয়া হলো যেগুলো বাংলাদেশে বা আমাদের আবহাওয়ায় সহজেই চাষ করা যায়

1.    গোলাপ

2.    জবা

3.    গাঁদা

4.    জুঁই

5.    বেল

6.    গন্ধরাজ

7.    সূর্যমুখী

8.    দোলনচাঁপা

9.    শিউলি

10. চামেলি

11. ডালিয়া

12. পেটুনিয়া

13. রজনীগন্ধা

14. চন্দ্রমল্লিকা

15. বোগেনভেলিয়া

16. কাঞ্চন

17. টিউলিপ (শীতকালে বিশেষ যত্নে)

18. গ্ল্যাডিওলাস

19. ট্যাগারেট

20. হিবিস্কাস (বিভিন্ন রঙের জবা)

21. ক্যানা লিলি

22. নীলকমল (ওয়াটার লিলি)

23. পদ্ম

24. হিবিস্কাস স্যাবডারিফা (লাল জবা, চা তৈরিতে ব্যবহৃত)

25. পারিজাত (শিউলি)

26. অর্কিড

27. বেলি (আরেক প্রকার জুঁই)

28. কামিনী ফুল

29. রাতরানি

  1. সূর্যলতা (মর্নিং গ্লোরি)

 

ফুলগাছ পরিচর্যার সারসংক্ষেপঃ

  • সার: জৈব সার সবচেয়ে নিরাপদ।
  • ফুল: গোলাপ, গাঁদা, জবা সারা বছর ফোটে।
  • যত্ন: রোদ, পানি নিয়মিত সার প্রয়োজন।
  • মরা ফুল: অবশ্যই কেটে ফেলতে হবে।

 

উপসংহারঃ

ফুলগাছ পরিচর্যা একদিকে যেমন শখ, অন্যদিকে এটি মানসিক শান্তির অন্যতম উৎস। নিয়মিত পরিচর্যা, সঠিক সার প্রয়োগ এবং সময়মতো পানি দিলে গাছ শুধু সুন্দর ফুলই দেবে না, বরং আপনার পরিবেশকে করবে সবুজ সতেজ।

আপনার যদি ছোট্ট একটি বারান্দা বা ছাদ থাকে, সেখানেও টবে টবে ফুলগাছ লাগিয়ে একটি রঙিন বাগান তৈরি করা সম্ভব। আর মনে রাখবেনমরা ফুল কাটুন, গাছকে পুষ্টি দিন, আর সারা বছর রঙিন ফুল উপভোগ করুন।

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post